সমাজ সংস্কারে ইমামদের ভুমিকা৷

সমাজ সংস্কারে ইমামদের ভুমিকা অনস্বীকার্য৷ প্রতিটি ইমামের সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে৷ সমাজ সংস্কারে ইমামগণ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে৷

ইমামগণ যে বক্তব্য রাখেন তা মানুষ খুব গুরুত্ব দিয়ে শোনে৷ ইমামদের কথা যে রকম গুরুত্ব পায় অন্য কোন ব্যক্তিদের কথা তেমন গুরুত্ব পায় না৷ কারণ ইমামগণ মুল্যবান স্থান মিম্বার থেকে বক্তব্য রাখেন৷ তাই মানুষ বক্তব্য মূল্যায়ন করে এবং মেনে চলার চেষ্টা করে৷

এজন্য, ইমামদের বক্তব্য রাখার ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি৷ বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত৷

আমার দেখা অনেক ইমামকে দেখছি, একই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন৷ বছর যাবত শুধু নামাজ আর কবরের ওয়াজ করেন৷ আবার কেউ রোযা, হজ্জ যাকাত নিয়ে টুকিটাকি বক্তব্য রাখেন৷ ইসলামি অর্থনৈতি নিয়ে আলোচনা হয় না বলাই সংগত৷ এ ব্যপারে জানা শোনা কম নাকি আলোচনা করতে কুন্ঠা বোধ করেন আমার বুঝে আসে না৷

এরপরে, সমাজ সংস্কারের আলোচনা খুবই কম৷ অথচ ইমামদের এ ব্যাপারে আলোচনা আরো বেশি করা দরকার৷ রাসুল সাঃ ছোট থেকে বড় সব বিষয় সমাধান করতেন৷ যদি কারো নামটা খারাপ হতো সেটাও পরিবর্তন করে দিতেন৷ যেমন হাদিসে এসেছে এক সাহাবীর নাম ছিলো হাজান তাকে নাম দিয়েছেন সাহল৷ এভাবে তিনি আঙুর ফলকে করম বলতে নিষেধ করেছেন, ঈনাব বলার আদেশ দিয়েছেন৷

ছোট থেকে বড়, ব্যক্তি থেকে সমাজ এবং রাষ্ট্র কিংবা অর্থনৈতি প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত৷

যদি ইমামগণ সমাজ সংস্কার নিয়ে কাজ করে তবে এটা খুব দ্রুত ফলপ্রসূ হবে৷ কেননা, ইমামদের সামাজের মানুষের সাথে সম্পর্ক র‍য়েছে৷ কম বেশি সবাইকে উপদেশ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন৷ এবং ইমামদের সবাই মান্য করেন৷ সম্মান করেন৷ ইমাম অর্থ নেতা৷ তাই ইমামদের সবাই শ্রদ্ধা করেন এবং তাদের কথা মেনে চলেন৷

আরো পড়ুনঃ  আমরা অন্যের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত৷

এবং ইমামগণ প্রতি সপ্তাহে জুমার দিন আলোচনার সুযোগ পান৷ এবং জুম্মার দিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন৷ তাই সমাজ সংস্কারে ইমামদের ভুমিকা অনেক বেশি৷

ইমামদের ভুমিকা বেশি হওয়ার কারণ হলো, বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ মসজিদ রয়েছে৷ এর থেকে বেশি হওয়াও কোন ব্যাপার নয়৷ প্রতিটি মসজিদে ইমাম রয়েছে৷ ইমামগণ খুব সহজেই মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে পারে৷ তাই ইমামদের সমাজ সংস্কারে ভুমিকা বেশি৷

মাদক দ্রব্য নেশা জাতীয় বিষয়ে আলোচনা করলে যুবক সমাজকে সর্তক করতে পারবে৷ এসব ভয়ংকর জাতীয় দ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত রাখতে পারে৷ এবং সমাজের মানুষকে সভ্য হিসেবে গড়ে তুলতে ইমামগণের আলোচনা অনেক বেশি কার্যকর৷

তাই ইমামদের সকল বিষয়ে আলোচনা করা উচিত৷ সমাজ সংস্কারের জন্য বক্তব্য রাখা উচিত৷ ইমামগণ যদি এ ব্যাপারে সতর্ক হন তবে সমাজও সংস্কার করা সম্ভব৷

সোস্যাল মিডিয়া কিংবা নিউজ মিডিয়া অথবা কোন আধুনিক সোসিয়াল থিওরি মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয় ঠিক, কিন্তু তা সমাজ সংস্কারের কোন কাজে আসে না৷ মানুষ সেগুলো তেমন গুরুত্ব সহকারে দেখেনা৷

তাই আমাদের মসজিদ ভিত্তিক এই আলোচনায় সকল ইমামদের বার্তা পৌঁছে দেয় উচিত৷ সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসা উচিত৷ ইমামগণ সক্রিয় হলে অবশ্যই সমাজ সংস্কার করা সম্ভব৷ আর সমাজ সংস্কার একমাত্র ইমামদের দ্বারা এবং ইসলামিক শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব৷

পোষ্টটি শেয়ার করুন....
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কে আরো দেখুন

guest
2 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Mahbub Hasan
Mahbub Hasan

অসাধারণ লিখছেন।

সাকিব
সাকিব

মাশাল্লাহ।

error: Content is protected !!
2
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x