ডিসেম্বর ৭, ২০২২

বাংঙ্গালি কেমন তা বুঝা বড় মুশকিল৷ এদের কথা এক কাজ আরেক৷ এরা বলে এক কাজ করে আরেক৷ এদের দেখতে নারী কিন্তু এদের চলন বাকা৷ এরা সোজা বললে ব্যাকা যাবে৷ ব্যাকা বললে সোজা যাবে৷ এরা কোন নিয়ম কানুন মানে না৷ মানে কোন শৃঙ্খল৷

এদের কবিতায় ও তা ফুটে উঠেছে৷ এরা যত বেশি কাজ পারে বলে বেড়ায় তার অর্ধেক কাজ ও জীবনে করে উঠতে পারেনি৷ এরাই বাঙ্গালি৷ কাজে নয় গুজবে বিশ্বাসী৷ গুজব ছড়াতে বাঙ্গালী অনেক পারদর্শী৷ এরা সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যে গুজব ছড়ায় দিতে পারে৷

গুজব ছড়াইতে এদের মিডিয়া ব্যবহার করা লাগে না৷ মিডিয়া ছাড়াই এদের গুজব গজহ হয়ে সবার দরজায় করাঘাত করতে থাকে৷ সেটাই কিভাবে যে সবার কাছে পৌঁছে যায় সেটা কল্পনা করতে গেলে আপনি হয়তো মানসিক প্রতিবন্ধ ও হয়ে যেতে পারেন৷

যাইহোক, বলতেছিলাম বাঙ্গালী জাতি এক কথা বলবে তো আরেক কাজ করবে৷ সবচাইতে বেশি ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, এরা একই বিষয় যখন নিজেদের দেশের মানুষ করবে তখন সমালোচনা করবে৷ ট্রল করবে ছোট করব৷ এবং ইসলাম ইসলাম করে চেচাবে৷ ইসলাম নিয়ে তখন খুব মাতামাতি করবে৷ ইসলামের ক্ষতি হচ্ছে মুসলমানের ক্ষতি হচ্ছে৷ ফেৎনা শুরু হইছে ইত্যাদি বলবে৷ আরো অনেক কিছু লিখায় হয়তো প্রকাশ করা সম্ভব কিন্তু দেখানো সম্ভব না৷ আসলে বাঙালির কার্যকলাপ কেমন৷ যদি বেশি ইন্টারেস্টিং মনে করেন৷ যদি দেখার আগ্রহ থাকে তবে ভ্লগ ভিডিওটি দেখে আসুন৷

বাঙ্গালী কেমন তা দেখুন, বাংলাদেশের এক মেয়ে কুরআন তিলাওয়াত করছে৷ তা দেখে বলছে নাউজুবিল্লাহ কি দিন আসলো ফেৎনা শুরু হয়ে গেছে৷ একটা মাদরাসা প্রতিযোগিতার আয়োজন করলো সেখানে মেয়ারা ছিলো৷ মহিলা মাদরাসার মেয়েরা৷ সমালোচনা শুরু হয়ে গেলো কি ফেৎনা শুরু করেছে এসব প্রতিষ্ঠান৷

অথচ দেখবেন ওই একই ব্যক্তি বিদেশি কোন মেয়ের বয়ান শুনে কমেন্ট বক্সে সুন্দর করে লিখবে “মাশাল্লাহ৷ অসাধারণ কি সুন্দর বয়ান৷ বয়ান শুনে দিলটা নরম হয়ে গেলো৷ অথবা ওই ব্যক্তিটা অন্য কোন বিদেশি মেয়ের কুরআন তিলাওয়াত শুনে কমেন্ট করবে মাশাল্লাহ৷

মানে এই বাঙালির মন কেমন বুঝি না৷ এরা হিরো আলমের গান নিজের প্রোফাইলে আপলোড দেয় আর ট্রল করে অথচ ওটা শুনা ও গুনাহ তখন মনে থাকে না৷  

এরা ইকবাল মাহমুদের গজল টাইপ গান আরকি ওটা গাওয়া হারাম শোনা হারাম ফতোয়া দেয়, অথচ এরাই আবার সামি ইউসুফ মাহের জেইন এর গান শোনে৷ কি অদ্ভুত৷

আরে ভাই মিউজিক হারাম মানে অলয়েজ হারাম৷ আমি কাউকে সাপোর্ট করতেছি না৷ বরং বলতেছি সেটা হারাম সেটা অলওয়েজ হারাম৷ আমি চাইলে সীমিত সময়ের জন্য হালাল করে নিতে পারব না৷

প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের কন্ঠে গান গজল শোনা নাজায়েজ৷  কুরআন তিলাওয়াত শোনাও নাজায়েজ৷ এতে প্রর্দা হয় না৷ পর্দার খেলাফ৷ কিন্তু সেটা অলয়েজ নাজায়েজ৷ দেশের মেয়েদের সময় নাজায়েজ ফিৎনা৷ আর বিদেশি হলে মাশাল্লাহ৷ এটা অদ্ভুদ না?৷

এটা কেমন আচরণ৷ এটা কেমন মুসলমানিত্ব৷ সব সময় মানতে হবে৷ যেটা হারাম অলওয়েজ হারাম৷ হিরো আলমের গান ট্রল করলে জায়েজ হয়ে যায় না৷ মিউজিক ব্যবহার করা গান গুলো শোনা অলওয়েজ হারাম৷

হারাম is হারাম৷ কখনো হালাল হবে না৷ কুরআনে আল্লাহ যেটা বলেছেন সেটাই বহাল আছে থাকবে৷ এর নড়চড় হয় নাই৷ হবে ও না৷ নিজের মন মত হালাল হারাম ফতোয়া দেয়া বন্ধ করতে হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *