আলেম সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা৷

আলেমরা মাসলাক নিয়ে, মাসয়ালা এবং আকিদা নিয়ে তর্কে বির্তকে জড়িয়ে আছে৷ এটা স্বাভাবিক ব্যাপার৷ কিন্তু এই তর্কে বির্তকে জড়িয়ে দলে দলে বিভক্ত হওয়া কিন্তু স্বাভাবিক ব্যাপার নয়৷

আমার কাছে খুব খারাপ লাগে এই ব্যাপারগুলো৷ বিশেষ করে যখন হক পন্থি ওলামারা একে অপরের প্রতি কটাক্ষ করে কথা বলেন৷

নিজেদেরকে হক ভাবেন এবং অন্য সকল কে বাতিল ভাবেন৷ কেউ গোমরা হয়ে গেছে বলে আখ্যা দেন৷ কেউ আবার কাফের বলে ফতোয়া দেন৷ এইরকম চিন্তাভাবনা আমি অনেকের মধ্যেই দেখেছি৷

এই তর্ক বির্তকের শেষ কোথায়? কারো জানা আছে?

নিজের মাসলাক বা পীরের কথা ঠিক প্রমাণের জন্য সবাই ব্যস্ত হয়ে যায়৷ কেউই হার মানতে রাজি নয়৷ সবাই নিজেদের হক প্রমাণ করতে ব্যস্ত৷ কুরআন, হাদিসে পৃষ্ঠার পরে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দলিল খুঁজতে থাকেন৷ যেভাবেই হোক নিজেদের তরিকা হক বলে প্রমাণ করতে হবে৷ দলিল প্রমাণাদি খুঁজতে খুঁজতে ভুলেই গেছেন, আল্লাহ তায়ালা এই কুরআন হেদায়েতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন নিজেদের মত প্রতিষ্ঠার জন্য নয়৷

আর সুন্নাহ আমাদের আদর্শ৷ আমাদের হাদিসে রাসুলের আদর্শ খোঁজা উচিত৷ নিজেদের মতের দলিল নয়৷

আমি বেশির ভাগই বর্তমানের আলেমদের কে দেখেছি৷ এরকম কাজ করছেন৷ তাঁরা জানেন, এটা উম্মাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে৷ যার ক্ষত সামান্য নয়; অনেক বড়৷ তারপরেও কেন তাঁরা এ পথে হাটছেন? এর উত্তর আছে কি?

বাংলাদেশে পীর আউলিয়া বেশি৷ যে পরিমানে পীর আওলিয়া আছে সে পরিমানে মুরিদও নাই৷ মনে হয়, মুরিদের চাইতে পীর বেশি৷ এত পীর যে তাদের লিস্ট করাটাও অস্বাভাবিক৷

এই পীরের মধ্যে আবার হক পন্থী এবং বাতিল পন্থী উভয়ই আছে৷ পীর নিয়ে চলছে হরদম তর্কাতর্কি৷ কেউ আবার দরবার খুলে ভক্তদের থেকে হাদিয়া তোহফা নিয়ে করছেন বাড়ি গাড়ি৷ এভাবেই চলছে আমাদের দেশে ইসলাম প্রচারের নামে নান রকমের ধোকাবাজি৷

আরো পড়ুনঃ  সাম্প্রদায়িক উষ্ণতা ছড়ায় কারা৷

যদি দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করে থাকেন তাহলে হিসাব করেন, কতজন কে ইসলাম বুঝাতে পেরেছেন? কতজনকে নামাজি বানিয়েছেন? কতজনকে খাটি মুসলমান বানিয়েছেন?৷ কতজনে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন?৷

আমাদের দেশ, পীর আওলিয়ার দেশ৷ তাই এদেশে পীর আওলিয়ারাই থাকবে৷ তাঁরাই ইসলাম প্রচার করবে৷ যারা পীরের লেবাস ধরে ভন্ডামি করছে তাদের বিতাড়িত করতে হবে৷ আর যারা হক পন্থী তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে৷ এর মধ্যে  অনেকে আবার পীর আওলিয়ার বিরোধিতা করে ফেরকা তৈরি করছেন৷ যারা পীর আওলিয়ার বিরোধিতা করছেন, তাঁরা ইসলামের জন্য কি করছেন? তাদের অবদান কি?।

আজকে আমরা তর্ক বির্তক এবং কাউকে ভ্রষ্ট, কিছু জানে না, আপড়া মৌলভি ইত্যাদি বলা নিয়ে পরে আছি৷ কোনটা জায়েজ আর কোনটা না জায়েজ তা নিয়ে পরে আছি৷

আমাদের মধ্যে কোন ঐক্য নেই৷ ভ্রাতৃত্ব নেই, নেই কোন ভালোবাসা৷ মুসলমান পরস্পরের ভাই ভাই৷ আজ সেটা মনে হচ্ছে ভুলেই গেছে৷

আলিয়া, কওমিয়া, জামায়াত, হেফাজত, উজানী, চরমোনাই, ছারছিনা, ঢালকা নগর, বাহাদুর পুর, আহলে হাদিস কেউ কাউকে দেখতে পারে না৷ একে ওপরের সাথে এমন আচরণ করে যেনো একে অপরের শত্রু৷

মাসয়ালা, আকিদাহ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, থাকবে৷ কিন্তু এ নিয়ে দলাদলি করা কতটুকু যৌক্তিক৷ এ থেকে কি এই আয়াতের কথাই স্পষ্ট নয়৷ “যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করছে এবং বিভিন্ন দলে পরিনত হয়েছে৷ প্রত্যেক দলই যা তাদের কাছে আছে তা নিয়ে উৎফুল্ল৷ সুরা রুম-৩২]

রাসুল সাঃ বলেন, আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত৷ তার মধ্যে একদল জান্নাতি৷ যারা রাসুল ও তাঁর সাহাবীদের অনুসরণ করবে তাঁরা৷ এজন্য বুদ্ধিমানের কাজ দলাদলি করে বিভক্ত হওয়া নয়৷

তর্ক এক জিনিস আর দলে বিভক্ত হওয়া আরেক জিনিস৷ তর্ক বির্তক হবে, মাসয়ালা নিয়ে মতভেদ থাকবে৷ কিন্তু তাই বলে দলে দলে বিভক্ত হয়ে পরা বোকার কাজ৷

আরো পড়ুনঃ  গান শুনা এখন আর গুনাহ মনে হয় না৷

আমাদের মধ্যে এই প্রবনতা সবচাইতে বেশি৷ এটা আমাদের আলেম সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা৷ এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার কি কোন উপায় আছে? এর কি কোন সমাধান আছে? এর শেষ কোথায়? আমাদের কি এর উত্তর জানা আছে?

আমাদের এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা  কতটুকু৷ আদৌকি আমরা এর থেকে বের হতে পারব? যদি না পারি তবে আমাদের জন্য বড় বিপদ আসন্ন৷

পোষ্টটি শেয়ার করুন....
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কে আরো দেখুন

guest
1 Comment
Inline Feedbacks
View all comments
মাহমুদ
মাহমুদ

অসাধারণ

error: Content is protected !!
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x